Header Ads Widget

সিধু কানু জীবন কাহিনী|(Sidhu Kanu Life Story)

        সিধু কানু জীবন কাহিনী| 


সিধু কানু জীবন কাহিনী| (biography in bengal )

আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা, 
আজকের প্রতিবেদন,সিধু কানু জীবন কাহিনী
 ভারত ইতিহাসে গণপদযাত্রার দুই অমর বীর সিধু ও কানু মুরমু, সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী| (biography in bengali)

1855 সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘটেছিল। আর এই বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন সিধু ও কানু নামক দুই ভাই। এই দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল ইংরেজ প্রশাসন ও দেশীয় জমিদার,মহাজনদের বিরুদ্ধে। তাদের বিদ্রোহ সফলতার দিকে এগোচ্ছিল। বিদ্রোহ দমন করার জন্য ইংরেজ প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেও বিদ্রোহ দমন করতে পারছিল না। অবশেষে কিছু লোভী, দুর্বৃত্ত মনস্ক সাঁওতালদের জন্য  বিদ্রোহের নেতারা মারা যায়। ফলে বিদ্রোহের গতিটা কিছুটা হ্রাস পায়। কেন সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল, আর এই বিদ্রোহ ফলে কি হয়েছিল, তা সবিস্তারে  আলোচনা করা হয়েছে।।(sidhu kanhu biography in bengali)


সিধু মুর্মু সম্পর্কে-
সিধুর পুরো নাম- সিধু মুর্মু

সিধুর জন্ম সাল- 1815 খ্রি

সিধুর জন্মস্থান -
ভগনাডিহ গ্রামে, বারহেত ব্লক, সাহেবগঞ্জ জেলার

বাবার নাম- 
সিধু মুর্মু চুন্নি মাঞ্জি

সিধু মুর্মুর মায়ের নাম---------------

কানহু, চাঁদ ও ভৈরব ভাই

বোনেরা- ফুলো ও ঝানু

স্ত্রী- সুমি মুর্মু

মৃত্যুর বছর আগস্ট 1855


সিধু কানহুর জন্ম ও পরিবার|

বড় ভাই সিধু মুর্মু 1815 খ্রিস্টাব্দে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাঁথাল পরগনা বিভাগের সাহেবগঞ্জ জেলার বারহেত ব্লকের ভোগনাডিহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কানহু মুর্মু 1820 খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। 1825 খ্রিস্টাব্দে এবং 1835 খ্রিস্টাব্দে যথাক্রমে সিধু কানহুর জন্ম চাঁদ এবং ভৈরব সহ ছয় ভাইবোন এবং ফুলন মুর্মু এবং ঝানো মুর্মু নামে দুই বোন। সিধু কানহুর বাবা ছিলেন চুন্নি মাঞ্জি, যিনি আন্দোলনের সময় শহীদ হন। সিধুর স্ত্রীর নাম সুমি মুর্মু|


সিধু ও কানু ভ্রাতৃদ্বয় (যথাক্রমে সিধু মুরমু ও কানু মুরমু), অন্য বানানে সিধো মুরমু(১৮১৫- ২৪ শে ফেব্রুয়ারি১৮৫৬) ও কানহু মুরমু (১৮২০ - ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬)ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের সাঁওতাল বিদ্রোহের দুজন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। কিছু লোকের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে সিধু গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কানু মুরমু ছিলেন তার অনুজ এবং অপর বীরদ্বয় চাঁদ ও ভৈরব তার অপর দুজন অনুজ ভ্রাতা।১৮৫৬ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ভগ্নাডিহির নিকট পাঁচকাঠিয়া বট বৃক্ষে বেলা পৌনে ২ নাগাদ ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয়।ফাঁসির মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন-"আমি আবার আসব, আবার সারা দেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে তুলব।"৪৫মিনিট তাঁর দেহটি ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে রাখার পর,সেটিকে নামিয়ে এনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।বর্বর ইংরেজ সরকার কানুর মৃতদেহটি তাঁর আত্মীয়দের হাতে তুলে দেবার সৌজন্য পর্যন্ত বোধ করেনি। ভৈরব ও চাঁদ ভাগলপুরের কাছে এক ভয়ংকর যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন করেন।

সিধু ও কানহু কোন উপজাতি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন,

সঠিক বিকল্পটি হল 1855 সালের বি সাঁওতাল বিদ্রোহ । ব্যাখ্যা: 30 জুন 1855: দুই সাঁওতাল বিদ্রোহী নেতা, সিধু মুর্মু এবং কানহু মুর্মু দশ হাজার সাঁওতালকে একত্রিত করেন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।



ভারতের ডাক টিকিটে সিধু - কানু,


এছাড়াও কলিয়ান হাড়াম ছিলেন সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাসের লিপিকার এবং সাঁওতালদের গুরু। তিনি তার "হড়কোরেন মারে হাপরামকো রেয়াাঃ কাথা" শীর্ষক একটি রচনায় সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিবৃত্ত রেখে গেছেন। এই ইতিবৃত্তে সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক সিধু ও কানুর সংগ্রাম-ধ্বনি, যথাঃ "রাজা-মহারাজাদের খতম করো", "দিকুদের (বাঙালি মহাজনদের) গঙ্গা পার করে দাও", "আমাদের নিজেদের হাতে শাসন চাই" প্রভৃতি লিপিবদ্ধ আছে। (সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল)


Hool Diwas: ভারতের প্রথম গণসংগ্রামের দিন; ভারত-ইতিহাসে প্রথম গণপদযাত্রার দিনও
দুই অমর বীর। যাঁরা অসম সাহসে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র-সজ্জিত ইংরেজবাহিনীর সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়়ে গিয়েছিলেন। লড়েছিলেন মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়, স্বাধীনতার স্বপ্ন সত্য করার প্রেরণায়। আজও তাঁদের স্মরণ করা হয়। আজও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয় মন। একজন সিধো মুরমু (১৮১৫-১৮৫৬), অন্যজন কানহু মুরমু (১৮২০-১৮৫৬)।
 দেখতে গেলে এই দুই বীরই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যোদ্ধা। আর তাঁদের নেতৃত্বে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল সেটাই ভারতের প্রথম স্বাধীনতার লড়াই। এক পরে ঘটেছিল সিপাহি বিদ্রোহ। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে , ৩০ জুনে প্রায় তিরিশ হাজার সাঁওতাল কৃষক বীরভূমের ভগনডিহি থেকে কলিকাতা অভিমুখে পদযাত্রা করেছিলেন। ভারতের ইতিহাসে এটিই প্রথম গণপদযাত্রা।(biography in bengali)
 
এই গণঅভ্যুত্থানই সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। তবে ১৮৫৫ সালেই যে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা তা নয়। আরও ৭৫ বছর আগে ১৭৮০ সালে সাঁওতাল জননেতা তিলকা মুরমু, যিনি তিলকা মাঞ্জহী নামেও পরিচিত, তাঁর নেতৃত্বে শোষকদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল গণসংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। তিনি সাঁওতাল মুক্তিবাহিনী গঠন করে পাঁচ বছর ধরে ইংরেজ শাষকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন। 

সিধু (সিধো) ও কানু (কানহু) ভ্রাতৃদ্বয়ই ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের সাঁওতাল বিদ্রোহের দুজন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। কিছু লোকের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে সিধু ব্রিটিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কানু ছিলেন সিধুর অনুজ। এ ছাড়াও ছিলে চাঁদ ও ভৈরব নামে আরও দুজন বীর|

১৮৫৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভগনডিহির সন্নিকটে পাঁচকাঠিয়া বটবৃক্ষে ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয় কানুকে। ফাঁসির মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন--আমি আবার আসব, আবার সারা দেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে তুলব। ইংরেজ সরকার কানুর মৃতদেহ তাঁর আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার সৌজন্যও সেদিন দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। আর ভৈরব ও চাঁদ ভাগলপুরের কাছে এক ভয়ংকর যুদ্ধে প্রাণ দেন।
সাঁওতাল বিদ্রোহ বা 'সান্তাল হুলে'র সূচনা ১৮৫৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারের ভাগলপুরে। ইংরেজ আমলে স্থানীয় জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের অন্যায় অত্যাচারের শিকার হচ্ছিলেন সাঁওতালরা। তাঁরাই এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
এটিই ছিল ইংরেজ, জমিদার, মহাজনদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সাঁওতালদের উপর অত্যাচার আরও বেড়ে গিয়েছিল। তাই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন নিপীড়িত সাঁওতালরা।


সমকতলা সিধু কানহু কলেজ।

সমুক্তলা সিধু কানহু কলেজ হল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি গ্রামীণ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্নাতক কলেজ। এটি একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত কলেজ যা 2010 সালের 8ই আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মধ্যে অবস্থিত, সাব হিমালয় ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশে সবুজ চা বাগান এবং বন দ্বারা ঘেরা, কলেজটি আলিপুরদুয়ার শহর থেকে 15 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার ব্লক-২ এর অধীনে সমুক্তলা গ্রাম পঞ্চায়েতে। এটি 20 কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে উচ্চ শিক্ষার একটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র যা বেশিরভাগ তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি এবং নিম্নবিত্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রদের শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ করে। গ্রামীণ, সংখ্যালঘু ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নতির জন্য নিবেদিত সমুক্তলার জীবনের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, রাজনৈতিক নেতা এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের একটি গ্রুপের দূরদর্শী এবং কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমকতলা সিধু কানহু কলেজ অস্তিত্ব লাভ করে। এই লক্ষ্যকে মাথায় রেখে কলেজটির নামকরণ করা হয়েছে - সমকতলা সিধু কানহু কলেজ।


আমাদের সুপ্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আজকের এই সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনটি আপনাদের অবশ্যই ভালো লাগবে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনাদের কাছে একটা বিশেষ অনুরোধ একটি লাইক ও শেয়ার করে সকলকে এই প্রতিবেদনটি জানাতে ভুলবেন না। 
                                                                 ধন্যবাদ | 



Post a Comment

0 Comments